Foto

আগুন নেভানোর সরঞ্জামের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও


প্রথমে ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা এলাকা, এরপর বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুন। এ দুটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মানুষের মধ্যে আগুন নিয়ে সচেতনতা আগের চেয়ে বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম বিক্রি। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ ও এনায়েত বাজার বাটালি রোডের অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তার সরঞ্জাম বিক্রির দোকানে এখন প্রতিদিন থাকছে ক্রেতার ভিড়। এসব দোকানে চার–পাঁচ গুণ বেড়েছে অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তার সরঞ্জাম বিক্রির হার। চাহিদা বাড়ায় বেড়ে গেছে এসব সরঞ্জামের দামও।


Hostens.com - A home for your website

ব্যবসায়ীরা জানান, এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পর গত এক সপ্তাহে ক্রেতারা বাসাবাড়ি, অফিস, গুদাম, দোকানের জন্য অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তার সরঞ্জাম কিনছেন। কেউ কেউ আবার এসব সরঞ্জাম সম্পর্কে ধারণাও নিয়ে যাচ্ছেন। পুরোনো সিলিন্ডার পুনরায় ভরাতে এবং সংস্কার করতে নিয়ে আসছেন অনেকে।

যেসব সরঞ্জাম বিক্রি হচ্ছে
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে মূলত অগ্নিনির্বাপণের এবিসি ড্রাই পাউডার (রাসায়নিক পাউডার), কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ও ফোম কেমিক্যাল সরঞ্জাম বিক্রি হয়। এই সরঞ্জামগুলো এক থেকে পাঁচ কেজির সিলিন্ডারে ভরে বিক্রি হয়। বেশি চলছে পাঁচ কেজির সিলিন্ডারগুলো। মানুষ বেশ কিনছেন এবিসি ড্রাই পাউডার। কারণ, অন্য দুটির চেয়ে এটির দাম কিছুটা কম। এ ছাড়া ধোঁয়া থেকে বাঁচতে অক্সিজেন মাস্ক, আগুন থেকে বাঁচতে ফায়ার ড্রেস, পানি দিতে হোস পাইপ, ফায়ার বল, বালতি, আগুনের সতর্কতামূলক সাইরেন, ধোঁয়ার অ্যালার্ম, কম্বল, নিরাপত্তা বেল্ট, চশমা, হেলমেট, স্ট্রেচারসহ আগুন নেভানোর সরঞ্জামের বিক্রিও বেড়েছে।
নগরের আগ্রাবাদের চৌমুহনী এলাকার গাউছিয়া মার্কেটে বেশ কয়েকটি অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তার সরঞ্জাম বিক্রির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অন্তরা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি দোকানের মালিক আবদুল মালেক সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, আগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তার সরঞ্জাম কিনত মানুষজন। কিন্তু বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের ঘটনার পর ফ্ল্যাট ও বাসাবাড়ির জন্যও এসব সরঞ্জাম কিনতে আসছেন অনেকেই। এ অগ্নিকাণ্ডের পর মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম কার্যালয় লাগোয়া নিউ জ্যোতি এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি দোকানে সিলিন্ডার কিনতে এসেছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কারিতাসের হিসাব বিভাগের অফিস সহকারী ডেভিড গনসালভেস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের অফিসের জন্য ছয়টি এক্সটিংগুইশার কিনেছেন।

একই দোকানে নিজের ফ্ল্যাটের জন্য অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কিনতে এসেছেন বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দা লোকমান উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি ফ্ল্যাট কিনে পরিবার নিয়ে থাকছেন। কিন্তু এত দিন অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কেনা হয়নি। ভবনেও সে রকম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তাই নিজ উদ্যোগে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম কিনতে এসেছেন।

দাম বেড়েছে
চাহিদা বাড়ায় প্রতিটি সরঞ্জামের দামই বেড়েছে। আগে পাঁচ কেজির এবিসি ড্রাই পাউডারের সিলিন্ডারগুলো ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। তা এখন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া একই ওজনের কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ২ হাজার টাকার জায়গায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ এবং ফোম কেমিক্যাল ১ হাজার ৫০০ টাকার জায়গায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নিউ জ্যোতি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা চীন থেকে এসব সরঞ্জাম আমদানি করেন। আগে দিনে ৫০টি মতো সিলিন্ডার বিক্রি হতো। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে ৫০০টির মতো সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বাড়ায় দামও প্রতি সিলিন্ডারের পেছনে ২০০ টাকার ওপর বেড়েছে।

 

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 49

Unique Visitor : 138945
Total PageView : 148209