খাদ্যে-ভেজাল-ও-রোগ-শনাক্তে-সাইন্সল্যাবে-এসেছে-অত্যাধুনিক-প্রযুক্তি

খাদ্যে ভেজাল ও রোগ শনাক্তে সাইন্সল্যাবে এসেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি


খাদ্যে ভেজাল ও রোগ শনাক্তকরণে সাইন্সল্যাবের গবেষণায় যুক্ত হয়েছে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রিয়েল টাইম পিসিআর এপ্লিকেশন অন ফুড এডাল্টারেশন অ্যান্ড ডিজিজ ডায়াগনসিস। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে পাওয়া যাবে নির্ভুল তথ্য। ৩০ অক্টোবর, রবিবার রাজধানীর বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রান্সফার অ্যান্ড ইনোভেশনের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান।


Hostens.com - A home for your website

দেশের মানুষের জন্য দরকার আর্থিক সামর্থের মধ্যে প্রযুক্তি, এ ছাড়া দেশের শিল্প উন্নয়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে ইয়াফেস ওসমান বলেন, সাধারণ মানুষকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর করতে হলে দরকার সহজলভ্য টেকনোলজি। যেন সহজেই তারা আকৃষ্ট হয়। অন্যথায় সনাতনি পদ্ধতি থেকে তাদেরকে বের করে আনা মুশকিল।

সনাতনী পদ্ধতিতে সময়ের অপচয় হয়, গুণগতমানের পণ্য উৎপাদনও সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ওসমান বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের এখনো অনেক কাজ বাকি। তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ প্রযুক্তি তৈরি করুন। যেন তারা অল্প খরচে মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে পারেন।

নতুন ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক ড. রেজাউল করিম বলেন, এই প্রতিষ্ঠান পোল্ট্রি শিল্পের খাদ্য উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত লাইসিন, মিথিউনিনসহ এমাইনো অ্যাসিডের মান ও গুণাগুণ পরীক্ষা আরও নির্ভুল করতে এমাইনো অ্যাসিড এনালাইসিস মেথড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেইনিং চালু করেছে।

এ ছাড়া খাদ্যে ভেজাল ও রোগ শনাক্তকরণে আইটিটিআই-এর গবেষণায় যুক্ত হয়েছে বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রিয়েল টাইম পিসিআর এপ্লিকেশন অন ফুড এডাল্টারেশন অ্যান্ড ডিজিজ ডায়াগনসিস। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে পাওয়া যাচ্ছে নির্ভুল তথ্য।

রেজাউল করিম দাবি করেন, উন্নত বিশ্ব ঝুঁকছে উন্মুক্ত জলাশয়ের চেয়ে বদ্ধ ঘরে মাছ চাষের দিকে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং ইউরোপে পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়। যাকে বলা হয় রিসার্কুলেটেড একুয়াকালচার সিস্টেম বা আরএএস।

রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ পদ্ধতি এখন সময়ের দাবি এ বিবেচনায় পদ্ধতিটি দেশে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ট্রান্সফার অ্যান্ড ইনোভেশন (আইটিটিআই)।
তিনি জানান, মাত্র এক হাজার লিটার পানিতে এখানে ১০০ কেজি মাছ চাষ করা যায়, যেখানে পুকুরে সম্ভব মাত্র ১০ থেকে ২০ কেজি। আর খাবার খরচও কম। পুষ্টিগুণেও পুকুরের মাছ থেকে এটি সেরা, কারণ এ মাছে প্রোটিনের পরিমাণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি। তাই আধুনিক ও লাভজনক এ পদ্ধতির মাছ চাষে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশে ঘটাতে পারে নতুন বিপ্লব।

আরএএস পদ্ধতি ছাড়াও আইটিটিআই নিয়ে এসেছে মাটি ছাড়া ঘাস চাষ পদ্ধতি যাকে বলা হয় হাইড্রোপনিক ঘাস। চাষের জমি কমতে থাকা বাংলাদেশে গবাদি পশুর খাবার নিয়ে খামারিদের উদ্বেগ কমিয়ে দিয়েছে এই পদ্ধতি। কারণ এখানে অল্প জায়গায় খুব অল্প সময়ে অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণ ঘাস।

আর অনেকের কাছে প্রিয় শুটকি মাছের গুণ ও মান নিয়ে শঙ্কা কাটাতে আইটিটিআই দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সমন্বয় ঘটিয়েছে হিট পাম্প ফিশ ড্রায়ার পদ্ধতির।

রেজাউল করিম বলেন, কোনো রকম রাসায়নিক ছাড়াই জীবাণুমক্ত শুটকি উৎপাদন করা যায় এ পদ্ধতিতে। যার উৎপাদন সক্ষমতা সনাতন পদ্ধতির চেয়ে তিনগুণ।

সম্প্রতি মশার ফাঁদ ও লার্ভিসাইড প্রয়োগের মাধ্যমে মশা নিধনেও সফলতা পেয়েছে আইটিটিআই। উন্নত বিশ্বের এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। আর প্রযুক্তিটিও বেশ সাশ্রয়ী। এর মাধ্যমে মশা নিধন করলে আগাম পাঁচ বছরেই ঢাকা থেকে কমে যাবে মশার উপদ্রব। সাশ্রয় হবে মশার পেছনে খরচ হওয়া সরকারের কোটি কোটি টাকা।

এ ছাড়াও নতুন নতুন আরও অনেক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে আইটিটিআই। আর এসব প্রযুক্তির খবর ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে ছড়িয়ে পড়েছে গণমানুষের মাঝে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রযুক্তি স্থাপনে সহায়তা দিচ্ছে আইটিটিআই। উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করতে আইটিটিআই ঢাকা এবং ঢাকার বাইরেও আয়োজন করে যাচ্ছে কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার।

Facebook Comments

" প্রযুক্তি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 4

Visitor Yesterday : 88

Unique Visitor : 145639
Total PageView : 152597