তৃণমূল-পর্যন্ত-বঙ্গবন্ধুর-জন্ম-শতবার্ষিকী-অনুষ্ঠানমালা-ছড়িয়ে-দিতে-চাই

তৃণমূল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে, আমরা সারা দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই।


Hostens.com - A home for your website

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এদেশের মানুষ যাতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে একটা মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে যেন আমরা গড়ে তুলতে পারি। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং বাস্তবায়ন কমিটির যৌথসভার শুরুতে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে মুজিববর্ষ যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্ট জনদের নিয়ে ১০২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি করেছে গতকাল ছিল তার প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা দেশের সকল জেলা, উপজেলা থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। হত দরিদ্রের হার আমরা ১১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য এটা আরো কমিয়ে আনা এবং হত দরিদ্র বলে এদেশে কিছু থাকবে না।

তিনি বলেন, মার্চ মাসটা আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ই মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন। আবার ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করবো। জাতির পিতার জন্মশতাবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এ দেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন জাতির পিতা। আর সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য। আমি মনে করি, তার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা ভালোভাবে উদযাপন করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তার জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, তারা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের ঐ অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নাই। মানুষের এই দুঃখ কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেননি। অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। উদযাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব কামাল আবদুুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এবং আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং মতিয়া চৌধুরী, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বৈঠকে নিজ নিজ অভিমত ব্যক্ত করেন। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে তাঁর সরকার জাতির পিতার আদর্শে দেশটা গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বাধা বিঘ্ন পেরিয়েই এ বছর আমরা জাতির প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগ অর্জনের দোরগোড়ায় উপনীত হয়েছি। মাথা পিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ ডলার হয়েছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে মর্যাদা পেয়েছি তা ধরে রাখার জন্য ইতিমধ্যেই কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের, যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। তিনি বাংলাদেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। তিনি সব সময় চাইতেন তার দেশের মানুষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি অর্জন করবে এবং বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যেন একটা সুন্দর জীবন পায়- সেটাই নিশ্চিত করা।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 20

Visitor Yesterday :