Foto

বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর জন্য বিশ্ববাসীকে নতুন করে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ


উষ্ণায়ন থেকে ধরণীকে বাঁচানোর সময় ফুরিয়ে আসছে - জাতিসংঘ । বিশ্ব উষ্নায়ন যেভাবে বাড়ছে তাতে বিপর্যয় এড়ানোর জন্য আর বেশি সময় হাতে নেই বলে সোমবার জাতিসংঘ জলবায়ু প্যানেল আইপিসিসি’র এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।


Hostens.com - A home for your website

বলা হয়েছে, বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা দরকার। কিন্তু তা এখন বাড়তে বাড়তে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পথে যাচ্ছে।

গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণ সাম্প্রতিক সময়ে যে মাত্রায় পৌঁছেছে তাতে ২০৩০ সালের শুরুতে কিংবা মধ্য শতাব্দীর মধ্যেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা এখনই ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এ মাত্রার উষ্ণতাই সাগর স্তর বেড়ে যাওয়া, প্রাণঘাতী ঝড়, বন্যা এবং খরার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ডেকে আনার জন্য যথেষ্ট।

জাতিসংঘের ইন্টারগভার্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর সদস্যরা গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার ইচানে বৈঠক করে জলবায়ু নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
বৈঠকে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে সাক্ষর করা দেশগুলোর সরকারকে প্রতিশ্রুতি পালনে অনুরোধ করার প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রতিবেদনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণে সরকারকে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।

ওই চুক্তিতে শিল্পোন্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও কোনো দেশই নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি।
এদিকে, ‘অন্যায্য চুক্তি’ বর্ণনা করে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন।

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে শিল্প বিপ্লব শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। শিল্প কারখানা থেকে নির্গত কার্বন ডাইঅক্সাইড কারণে মূলত বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে হলে ভূমি ও জ্বালানির ব্যবহার, শিল্প, আবাসন, পরিবহন ও নগরায়নে ‘দ্রুত, উচ্চাকাঙ্খি এবং অভূতপূর্ব’ পরিবর্তন আনতে হবে।

সেইসঙ্গে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে কর্বন নিঃসরণ যে মাত্রায় কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে ২০৩০ সালের পর তা আরো কমাতে না পারলে চুক্তির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে না।

আইপিসিসির যৌথ-প্রধান জিম স্কেয়া বলেন, “রসায়ন ও পদার্থের নিয়মকানুন অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেঁধে রাখা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে এ কাজ করতে হলে অভূতপূর্ব পরিবর্তন প্রয়োজন।”

১ দশমিক ৫ ডিগ্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ সরবরাহ বিদ্যুৎ থেকে আসতে হবে। বর্তমানে যা মাত্র ২৫ শতাংশ।

এছাড়া গ্যাস ভিক্তিক শিল্পকারখানা থেকে কার্বন নিঃসরণ ৮ শতাংশে এবং কয়লা ভিত্তিক শিল্পকারখানার কার্বন নিঃসরণ শূন্য থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

 

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 79

Unique Visitor : 138753
Total PageView : 148057