Foto

মসজিদে আক্রমণ ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ : তসলিমা নাসরিন


মসজিদে সন্ত্রাসী আক্রমণ মুসলিমদের প্রতি ‘ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। গতকাল রোববার লেখিকা সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার প্রসঙ্গ টেনে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মুসলিম-অমুসলিম উভয়ের সমালোচনা করেছেন। সেইসঙ্গে মুসলিমদেরকে অমুসলিমদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোরও পরামর্শ দেন তিনি।


Hostens.com - A home for your website

তসলিমা নাসরিন লিখেন, ’সারা মুসলিম বিশ্ব কেঁপে উঠেছে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী ঘটনার খবর শুনে। মুসলিমদের ওপর মানুষের এমনিতে অনেক রাগ, কারণ মুসলিমরা বিশ্বজুড়ে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কাণ্ড ঘটায়। শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটে, শত শত মেয়ে ধর্ষিতা হয়। সে কারণে কিছু মুসলিম-বিদ্বেষী লোক সুযোগ পেলে মুসলিমদের অপমান, নির্যাতন করতে ছাড়ে না। মসজিদে সন্ত্রাসী আক্রমণ মুসলিমদের প্রতি সেই ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ।’

বিতর্কিত এই লেখিকা লিখেন, ’মসজিদে হামলা অবশ্য নতুন কিছু নয়। সুন্নি সন্ত্রাসীরা শিয়াদের মসজিদে বা আহমদিয়াদের মসজিদে প্রায়ই হামলা চালায়। নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসীটি উগ্র ডানপন্থী, বর্ণবাদী, সাদা নয় এমন মানুষদের, বিশেষ করে অভিবাসীদের ঘৃণা করে। নরওয়ের বর্ণবাদী সন্ত্রাসী এন্ডারস ব্রেইভিকের মতো। মুসলিমদের প্রতি ঘৃণাটা তাদের একটু বেশিই।’

অমুসলিমদের সমালোচনা করে তিনি আরও লিখেন, ’মুসলিম-বিদ্বেষীরা ভেবে নিয়েছে সব মুসলিমই সন্ত্রাসী, সুতরাং একটি মুসলিমকে হত্যা করা মানে একটি সন্ত্রাসীকে হত্যা করা। ঘৃণা এদের মস্তিস্ককে এমনভাবে দখল করে আছে যে সামান্য এইটুকু ভাবনা ওতে ঠাঁই পায় না যে অধিকাংশ মুসলমানই সন্ত্রাসী নয়। জগতের কত সহস্র নিরীহ নিরপরাধ মুসলিমকে শাস্তি পেতে হয় অল্প সংখ্যক মুসলিমের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য!’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মুসলিমদের উদ্দেশে তসলিমার বক্তব্য, ’মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা দীর্ঘকাল পেতে হলে মুসলিমদের শুধু “সন্ত্রাসী নই”—এই ট্যাগই যথেষ্ট নয়, মুসলিমদের প্রতি যেমন, অমুসলিমদের প্রতিও তাদের সহানুভূতি থাকতে হবে।’

’সারা পৃথিবীর অমুসলিম লোক যেভাবে নিউজিল্যান্ডের নিরীহ মুসলিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে, যেভাবে সমব্যাথী হচ্ছে, মুসলিমদেরও এ থেকে শেখা উচিত। অমুসলিমদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হলে মুসলিমদেরও এভাবে শোক প্রকাশ করা উচিত, এভাবে সমব্যথী হওয়া উচিত’ বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ১৫ মার্চ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন, অর্ধশতাধিক। এই সন্ত্রাসী হামলার সময় আল নূর মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তারা মসজিদে ঢোকার কিছুক্ষণ আগে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে অল্পের জন্য বেঁচে যান টাইগাররা।

 

Facebook Comments