Foto

সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান: কুর্দিদের প্রতি ইসরাইলের এতো সমর্থন কেন?


চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে পশ্চিমা বিশ্বে নিন্দার ঝড়ে পড়েছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান।


Hostens.com - A home for your website

এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিরস্কার ও প্রতিবাদ এসেছে ইসরাইল থেকে। সিরিয়ায় তুর্কি সেনাদের সেই অভিযান বিষয়ে ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া ছিল অভাবনীয়।

অভিযানের কিছুক্ষণ পরই নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বিবৃতি দিয়েছিলেন, সিরিয়ার কুর্দিদের মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইসরাইল।

তুরস্কের সমালচনায় মেতে উঠে প্রতিটি ইসরায়েলি #ফ্রিকুর্দিস্থান হ্যাশট্যাগ দিয়ে টুইট করে কুর্দিদের পক্ষে নিজেদের অকুন্ঠ সমর্থন প্রকাশ করেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও তুরস্কের কুর্দিবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছিল।

ইসরায়েলি সেনাদের অনেকেই তাদের সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেন।

কুর্দিদের খাদ্য, পোশাক এবং চিকিৎসা সহায়তা ছাড়াও সামরিক এবং গোয়েন্দা সহায়তা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয় সেখানে।

সম্প্রতি আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কুর্দিদের প্রতি ইসরাইলের এমন আবেগ, সমর্থন ও ওই অভিযান বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

কুর্দিদের প্রতি ইসরায়েলিদের এই ব্যাপক সমর্থনের কারণ জানাতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কুর্দি এবং ইহুদীদের মধ্যে ঐতিহাসিক সংযোগের দিকটি তুলে ধরেছেন।

কুর্দি দমন অভিযান চললে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আধিপত্য বেড়ে যাবে, সেই ভয় থেকেও সিরিয়ায় এমন অভিযানে ইসরাইল সন্তুষ্ট নয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, সঙ্গত কারণেই বিষয়টি চিন্তিত করে তুলেছিল ইসরাইলতে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নিয়ে এই অঞ্চলের কুর্দি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে তুর্কিদের অবাধ অভিযানের সুযোগ তৈরি করে দেন।

এতে সমস্যায় পড়ে যায় ইসরাইল। কারণ এর পর রাশিয়া ছাড়া সিরিয়ায় বড় কোনো বৈশ্বিক ক্ষমতার অস্তিত্ব আর থাকে না।

এদিকে ইরান ও রাশিয়া দীর্ঘদিনের মিত্র। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সিরিয়ায় ইরানি প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

ইসরাইল আশংকা করছে, এ সুযোগ কাজে লাগাবে ইরান। তারা সহজেই ইরাক এবং সিরিয়ার মধ্য দিয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে তাদের অস্ত্র পাঠাতে পারবে।

আর হিজবুল্লাহ ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

এর আগে সিরিয়া যুদ্ধের সুযোগে সিরিয়ান সামরিক অস্ত্র বহরে এবং হিজবুল্লাহর ওপর বেশ কয়েকবার হামলা করেছিল ইসরাইলি বিমান বাহিনী।

কিন্তু বর্তমানে ওই এলাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা সরিয়ে নেয়ায় ইসরাইলের পক্ষে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

ফলে এসব কারণেই সিরিয়ায় তুর্কি অভিযান নিয়ে মোটেও খুশি ছিল না ইসরাইল।

প্রসঙ্গত সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৩৬ লাখ সিরীয় শরণার্থী। এসব শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরাতে চায় তুর্কি সরকার।

কুর্দি বিদ্রোহীদের হাত থেকে সিরিয়া সীমান্ত পুনরুদ্ধার করে সেখানে ওই শরণার্থীদের পুনর্বাসন করতে চায় আঙ্কারা।

সীমান্তে নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চলতি বছরের ৯ অক্টোবর সিরিয়ার ‘অপারেশন পিস স্প্রিং’ নামের সামরিক অভিযান শুরু করে তুরস্ক।

তুর্কি অভিযানের আগে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা।

পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালেই তুরস্কের দাবিকৃত নিরাপদ অঞ্চলের আওতাধীন রাস আল-আইন শহর ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় কুর্দি বিদ্রোহীরা।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 18

Unique Visitor : 132986
Total PageView : 143249