সুনামগঞ্জে-দুই-গ্রামবাসীর-সংঘর্ষে-যুবক-নিহত-১৪৪-ধারা-জারি

সুনামগঞ্জে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে যুবক নিহত, ১৪৪ ধারা জারি


সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর দফায়-দফায় সংঘর্ষে ইয়াকুব আলী (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে দুই শতাধিক।


Hostens.com - A home for your website

বুধবার সন্ধ্যা থেকে ছাতক উপজেলার সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের গোবিন্দগঞ্জের সাদা সেতু (ব্রিজ) এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াকুব আলী উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামের খুরশিদ আলীর ছেলে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির গোবিন্দগঞ্জ পুলেরমুখ ও আশপাশ এলাকায় রাত ৮টা থেকে পর দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাতকের লালপুর রেলওয়ে এলাকায় মঙ্গলবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় উপজেলার দিঘলী গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে ফয়সল আহমদ শিবনগর গ্রামের বেশ কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।

ওই সময় ফয়সলকে গালাগালে উপজেলার শিবনগর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বাধা দিলে ত্রিমুখী হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

বুধবার বিকালে এরই জেরে সিএনজি অটোরিকশাযোগে গোবিন্দগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে সাদা সেতু এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে সাজু মিয়াকে বেধড়ক মারপিট করেন ফয়সল ও তার সহযোগীরা।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অটোরিকশাতে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন।

পরে এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় উপজেলার শিবনগর ও দিঘলী দুই গ্রামবাসী পৃথক জোঠ বেঁধে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাদা সেতু এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

টানা দু’ঘন্টাব্যাপী উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে হামলা পাল্টাহামলা চলাকালে বেশ কয়েক রাউন্ড আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিবিনিময় হলে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত মোহাম্মদ আলী, শাহনুর, ইকবাল, সুজন, শিপন, সাজু মিয়া, আওলাদ, সুমন, জাহির উদ্দিন, আবদুল মজিদ, মঞ্জুর আলম, আহমদ আলীসহ ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষে আহত মোস্তফা মিয়া, জায়েদ, নাসির উদ্দিন, আলমগীর, ফরিদ, লায়েক জহির তোফায়েল, খুরশীদ, হারুনসহ অন্যদের সিলেট, ছাতকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইয়াকুব আলী সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন।

ছাতক থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমিনুল ইসলাম উভয়পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে কমপেক্ষ পুলিশ ৩০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়েছে।

বুধবার রাতে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, গোবিন্দগঞ্জ পুলেরমুখ ও আশপাশ এলাকায় বুধবার রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

রাতে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Facebook Comments

" আঞ্চলিক সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ

Web Hosting and Linux/Windows VPS in USA, UK and Germany

Visitor Today : 2

Visitor Yesterday :